জিমে গিয়ে যে মেশিন কার্ডিও করতেন, সেগুলো করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ ওজনও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। তাহলে আর কী, বাড়ি থেকেই ৩০ মিনিটেই গড়ে তুলুন এইচআইআইটি শরীরচর্চার অভ্যেস। হাই ইনটেনসিটি ইন্টারভাল ট্রেনিং বা এইচআইআইটি শারীরিক ক্ষমতা তো বাড়ায়ই, সেই সঙ্গে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভাল রাখেঅল্প ব্যবধান রেখে দ্রুত গতির শরীরচর্চার নামই এইচআইআইটি। কম সময়ের মধ্যে এই শরীরচর্চায় দারুণ ফল পাওয়া যায়। এই শরীরচর্চার মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের সমস্যা তো কমেই, পেশিও শক্তিশালী হয়, নিয়ন্ত্রণে থাকে উচ্চ রক্তচাপ।
এইচআইআইটি কী ভাবে করবেন?
এইচআইআইটি করার জন্য লাগবে একটি যোগ ব্যায়ামে করার আসন। বেশ কয়েকটি প্রচলিত শরীরচর্চাই যে আসলে এইচআ
ইআইটি, সেটা আমরা অনেকেই জানি না। যেমন জাম্পিং জ্যাকস, জাম্প স্কোয়াট, মাউটেন ক্লাইম্বিং, বারপি। এছাড়াও আরও অনেক ফ্লোর-কার্ডিও রযেছে যেগুলো করতে পারেন। ধরা যাক, আপনি ১৫ মিনিট শরীরচর্চা করবেন। তার মধ্যে ৫ মিনিট করে ৩টে এইচআইআইটি এক্সারসাইজ করবেন। ৫ মিনিটে একটি ব্যায়ামের সেটের মধ্যে যদি ২ টো করে এক্সারসাইজ করা হয়, তাহলে সেই ২টো এক্সারসাইজের মধ্যে ধরা যাক ১০ বা ১৫ সেকেন্ডের নামমাত্র বিরতি নিলেন। বিরতি নিয়েই পরেরটি শুরু করে দিলেন। তারপরের এইচআইআইটি ব্যায়ামটি শুরু করার আগে আবার ১০ সেকেন্ডের বিরতি নিন। এই ভাবেই কম সময়ে আপনি বেশ কয়েকটি কার্ডিও করে ফেলতে পারেন।
কেন করবেন?
১। সাধারণ ব্যায়ামের চেয়ে এই এক্সারসাইজে উপকার অনেক। কারণ এতে কম সময়েই অনেক বেশি ক্যালোরি ঝরানো সম্ভব। সাধারণ ব্যায়ামের অনুপাতে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ বেশি ক্যালোরি খরচ হয় এইচআইআইটি-তে।
২। এই এক্সারসাইজ শেষ করার বেশ কিছুক্ষণ পরও মেটাবলিক রেট বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে জগিং বা অন্যান্য ওয়েট লিফটিংয়ের চেয়ে এই এক্সারসাইজের ফলে মেটাবলিক রেট বেশি হয়।
৩। অত্যন্ত কম সময়ে শরীর থেকে মেদ ঝরাতেও এর জুড়ি মেলা ভার। তাই যাঁরা খুব কম সময়ে ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য আদর্শ এই এইচএইচআইটি এক্সারসাইজ।
৪। শরীরে অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায় এইচআইআইটি।
৫। রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে যাঁদের, তাঁদেরও ঝুঁকি কমাবে এই ব্যায়াম।
৬। রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে এইচআইআইটি।
খেয়াল রাখুন
তবে যদি কারও হৃদযন্ত্রে সমস্যা থাকে, তাহলে এইচআইআইটি করা থেকে বিরত থাকাই ভাল। কেউ যদি সম্প্রতি কোনও গুরুতর চোট পেয়ে থাকেন, তাহলে এখনই এই এক্সারসাইজ করবেন না। প্রথম ট্রেনিং শুরু করার আগে একবার চিকিৎসক ও ট্রেনারের সঙ্গে কথা বলে নিলে ভাল করবেন।
No comments