লকডাউনে কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করছেন? সাবধান! আক্রান্ত হতে পারেন যে ৮টি রোগে! - Vice Daily

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

লকডাউনে কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করছেন? সাবধান! আক্রান্ত হতে পারেন যে ৮টি রোগে!

কম্পিউটার ইতোমধ্যেই আমাদের জীবনের অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। কম্পিউটার আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, গতিশীল করেছে। কিন্তু আপনারা জানেন কি, যারা লম্বা সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন বা গেমস্‌ খেলেন, তারা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির …



কম্পিউটার ইতোমধ্যেই আমাদের জীবনের অপরিহার্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। কম্পিউটার আমাদের জীবনকে সহজ করেছে, গতিশীল করেছে। কিন্তু আপনারা জানেন কি, যারা লম্বা সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন বা গেমস্‌ খেলেন, তারা বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হতে পারেন? স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইটে এমন ৮ ধরনের ক্ষতির কথা বলা হয়েছে।

ক্ষতি ১: দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া

লম্বা সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করলে, নিঃসন্দেহে আমাদের চোখের ওপর চাপ পড়ে। যদি আমরা প্রতিনিয়ত লম্বা সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করি বা গেমস্‌ খেলি, তবে আমাদের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাবে, দৃষ্টি হয়ে যাবে ক্ষীণ।

ক্ষতি ২: ক্যান্সার হতে পারে

কম্পিউটারের বিকিরণ মানবদেহের সজীব উপাদানের মধ্যে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পরিস্থিতি গুরুতর হলে মানুষ ক্যান্সারেও আক্রান্ত হতে পারে।

ক্ষতি ৩: প্রজনন-ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া

কম্পিউটারের সামনে নিয়মিত লম্বা সময় ধরে বসে কাজ করলে পুরুষদের প্রজনন-ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। এক্ষেত্রে তাদের শুক্রাণুর গুণগত মান কমে যাবে বা যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। অন্যদিকে, নারীদের জন্যও এ অভ্যাস বিপদ ডেকে আনতে পারে। গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে গর্ভপাতের আশঙ্কা আছে এবং এতে গর্ভস্থিত সন্তানের অস্বাভাবিক শারীরিক গড়ন নিয়ে জন্ম নেবার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

ক্ষতি ৪: 'মাউস হাত' সৃষ্টি হতে পারে

'মাউস হাত' বা 'মাউস হ্যান্ড' কথাটার সঙ্গে আপনার অনেকেরই হয়তো পরিচয় নেই। সাধারণত অধিকাংশ মানুষই ডানহাতি এবং তারা ডান হাতে কম্পিউটারের মাউস ব্যবহার করেন। তো, যে যে-হাতেই কম্পিউটারের মাউস ব্যবহার করুক না কেন, তার সে হাত অতিরিক্ত ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে হাতের ওপর থেকে আঙুল পর্যন্ত ব্যথা হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে অবস্থা গুরুতর হলে আমরা বলি 'মাউস হ্যান্ড' হয়েছে। মাউস হ্যান্ড হলে আঙুল নাড়াতেও কষ্ট হয় বা কখনো কখনো আঙুল নাড়ানো যায় না।


















ক্ষতি ৫: Osteoporosis হতে পারে

কম্পিউটারের সামনে লম্বা সময় বসে থাকার অভ্যাস হয়ে গেলে, আপনার হাড়ের কোষের কার্যক্ষমতা কমে যাবে এবং হাড়ে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়ামের অভাব দেখা দেবে। এ অবস্থায় কখনো কখনো হাড় ভেঙে যেতে পারে বা হাড়ে ফ্রাকচার হতে পারে। আর কেতাবি ভাষায় বললে, আপনি অস্টিওপরোসিসে আক্রান্ত হতে পারেন।
অস্টিওপোরোসিস এক ধরনের হাড়ের অসুখ যাতে হাড় ক্ষয়িষ্ণু এবং শেষাবধি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বিশ্বে প্রথম কয়েকটি মারাত্মক রোগের ভেতর অস্টিওপোরোসিসের অবস্থান তৃতীয়। অস্টিওপোরোসিস সরাসরি মৃত্যুর কারণ নয়; তবে অস্টিওপোরোসিসজনিত জটিলতার কারণে মানুষের মৃত্যু হয়। প্রধানত দুই ধরনের অস্টিওপোরোসিস হয়: প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি অস্টিওপোরোসিস। প্রাইমারি অস্টিওপোরোসিস দুটি কারণে হয়। একটি বয়সের বৃদ্ধির ফলে। একে বলা হয় "সিনাইল অস্টিওপোরোসিস"। আরেকটি হলো মহিলাদের মাসিক রজ:স্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সূচিত পোস্টমেনোপোজাল অস্টিওপোরোসিস। বিভিন্ন রকম ওষুধ গ্রহণজনিত কারণে সেকেন্ডারি অস্টিওপোরোসিস হয়ে থাকে। যেমন:- অ্যাজমা রোগীরা প্রচুর স্টেরয়েড গ্রহণ করার কারণে অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন হরমোনের বৈষম্যতা জাতীয় অসুখ যেমন- হাইপোথাইরয়ডিসম, হাইপারথাইরয়ডিসম, ডায়াবেটিস খেলাইটাস হলেও ধীরে ধীরে সেকেন্ডারি অস্টিওপোরোসিস হয়ে থাকে। মহিলাদের ইস্ট্রোজেন নামক হরমোন হাড়কে মজবুত করতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যাওয়ায় হাড়ের ক্ষয় বেড়ে যায় এবং হাড়ের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে। "বোন মিনারেল ডেনসিটি টেস্ট" এবং "এক্স-রে" ইত্যাদি পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের আক্রমণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ক্ষতি ৬: Hemorrhoids হতে পারে

হ্যাঁ, যারা কম্পিউটারের সামনে বসে দীর্ঘক্ষণ কাজ করেন নিয়মিত, তারা ছাড়াও যারা দীর্ঘক্ষণ ধরে নিয়মিতভাবে বসে কাজ করেন, তাদের Hemorrhoids রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি হবে। কারণ, বসে থাকলে পেটের ওপর চাপ বেশি পড়ে এবং পায়ুপথের আশেপাশের রক্তপ্রবাহ সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না। তাই আপনি Hemorrhoids রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। হেমোরয়েডস (Hemorrhoids) হচ্ছে, পায়ূপথে বিদ্যমান অঙ্গ রক্তনালী যা মল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফোলা বা প্রদাহ থেকে এগুলো রোগ সংক্রান্ত বিষয় বা পাইলস-এ পরিণত হয়। শারীরবৃত্তীয় পর্যায়ে এগুলো ধমনী-শিরা পথ এবং যোজক কলা দ্বারা গঠিত কুশনের ন্যায় কাজ করে।
অস্বাভাবিক হেমোরয়েডস-এর উপসর্গ এর ধরনের ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত অভ্যন্তরীণ হেমোরয়েডস এর ক্ষেত্রে মলদ্বারে রক্তপাত লক্ষ্য করা যায় যা বেদনাবিহীন, আর বাহ্যিক হেমোরয়েডস হলে কয়েকটি উপসর্গ দেখা দিতে বা থ্রমবোজড (রক্তনালীতে গঠিত) হলে তা মলদ্বার অঞ্চলে লক্ষণীয় মাত্রায় ব্যথা ও স্ফীতির কারণ হতে পারে। অনেক লোক পায়ূ-মলদ্বার অঞ্চলের চারদিকে যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলেই তা "হেমোরয়েডস" ভেবে ভুল করেন, যেগুলোকে উপসর্গের মারাত্মক কারণ হিসাবে উপেক্ষা করা উচিত।
লাক্ষণিক হেমোরয়েডস এর কারণ জানা যায়নি। এর পিছনে যেসব কারণ দায়ী বলে ধারণা করা হয় তার মধ্যে রয়েছে: অন্ত্রের সমস্যা (কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া), ব্যায়াম ও পুষ্টি উপাদানে ঘাটতি (স্বল্প-আঁশসমৃদ্ধ খাবার), পেটের ভিতরে চাপ বৃদ্ধি (দীর্ঘায়িত চাপ), অ্যাসিটিস (পেটের গহ্বরে জমা নিঃসৃত তরল), পেটের ভিতরে বস্তু বা গর্ভাবস্থা), জন্মগত, হেমোরয়েড শিরায় কপাটিকার অনুপস্থিতি ও বার্ধক্য। অন্যান্য যেসব কারণ ঝুঁকি বৃদ্ধি করে বলে ধারণা করা হয় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থূলতা, দীর্ঘসময় বসে থাকা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং বস্তিদেশের কার্যক্রম বন্ধ।

গর্ভাবস্থায়, তলপেটের ওপর ভ্রূণ এর চাপ ও হরমোনের পরিবর্তনের ফলে হেমোরয়েড রক্তনালী বর্ধিত হয়। প্রসবের কারণেও পেটের ভিতরে চাপ বৃদ্ধি পায়। প্রসবের পর সচরাচর উপসর্গ আর থাকে না বিধায় গর্ভবতী মহিলাদের শল্যচিকিৎসা লাগে না বললেই চলে।

প্রাথমিকভাবে রোগের হালকা থেকে মাঝারি পর্যায়ে চিকিৎসা হিসাবে রয়েছে আঁশ গ্রহণ, জলযোজন বজায় রাখতে মুখ দিয়ে তরল গ্রহণ, ব্যথা কমাতে এনএসএআইডি (স্টেরয়েড বহির্ভূত প্রদাহ নাশক ওষুধ) এবং বিশ্রাম। উপসর্গ গুরুতর হলে বা তা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সত্ত্বেও উন্নতি না হলে ছোটখাট কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। এসব পদ্ধতি অবলম্বনের পর কারো উন্নতি না হলে তাদের জন্য রয়েছে শল্যচিকিৎসা। জনসংখ্যার অর্ধেকই জীবনের কোনো পর্যায়ে হেমোরয়েডস সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগতে পারে। চিকিৎসায় সচরাচর ভালো ফল হয়।

















ক্ষতি ৭: কম্পিউটার-নির্ভরতা সিনড্রোম (Computer dependency syndrome)

নিয়মিত লম্বা সময় ধরে কম্পিউটার ব্যবহার করলে, আপনার Computer dependency syndrome হতে পারে। এ রোগ হলে আপনি কম্পিউটার ব্যবহার না-করে স্বাভাবিক থাকতে পারবেন না। যেমন, যদি কোনো কারণে এক বা একাধিক দিন আপনাকে কম্পিউটার ব্যবহার করতে না-হয়, তবে আপনি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হতে পারেন। আপনার মন খারাপ হবে এবং আপনি তার কারণ বুঝতে পারবেন না।

ক্ষতি ৮: ত্বকের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে

কম্পিউটার স্ক্রিনে সৃষ্ট স্থির বিদ্যুত আমাদের ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। কারণ, এ বিদ্যুত স্ক্রিনের সামনে ভাসমান বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষতিকর কণা আকর্ষণ করে আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে থাকে। আর যারা নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করেন, তাদের তো এ ক্ষতি হবার আশঙ্কা স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

No comments