দীলিপ ঘোষকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব - Vice Daily

Page Nav

HIDE

Grid Style

GRID_STYLE

Post/Page

Weather Location

Breaking News:

latest

দীলিপ ঘোষকে বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব

রাজ্যের বাইরে থেকে ভোটে লড়ে জামানত ধরে রাখতে পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানবে বিজেপি। আমডাঙার মরিচায় বিজেপির পঞ্চায়েত জয়ীদের অনশন ভাঙতে এসে একথা বললেন বিজেপির কর্ম সমিতির সদস্য মুকুল রায়।

বিজেপির জাতীয় কার…



রাজ্যের বাইরে থেকে ভোটে লড়ে জামানত ধরে রাখতে পারলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মানবে বিজেপি। আমডাঙার মরিচায় বিজেপির পঞ্চায়েত জয়ীদের অনশন ভাঙতে এসে একথা বললেন বিজেপির কর্ম সমিতির সদস্য মুকুল রায়।

বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী বেঁচে থাকতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। জয়ের কথায়, “ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদ নরেন্দ্র মোদীর জন্য ফিক্সড হয়ে গিয়েছে। মোদী বেঁচে থাকতে ওই পদে অন্য আর কেউ বসতে পারবেন না।” এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই বলে জানিয়েছেন জয়।

এদিকে আমডাঙার মরিচায় বিজেপির আরেক কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায় বলেন, বাঙালি প্রধানমন্ত্রী বলে কিছু হয় না। দিলীপ ঘোষের মত কে অস্বীকার করে  মুকুলের যুক্তি,বাংলার বাইরে মমতা লড়ে জিতে দেখাক।বরং তার যুক্তি,বাংলার বাইরে মমতা ভোটে লড়লে জামানত যদি রাখতে পারেন তাহলে তাকে প্রধান মন্ত্রী করা হবে।

মমতার প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে এবার দিলীপ ঘোষ ঢোক গিললেন। প্রসঙ্গত শনিবার জানিয়েছিলেন,  বাঙালীদের মধ্যে মমতাই প্রধানমন্ত্রীর প্রধান দাবিদার। চব্বিশঘন্টা পার না হতেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি ১৮০ ডিগ্রি পাল্টি খেলেন। রবিবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানান মোদির জমানায় মমতা কোনদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। এমনকি মমতার প্রধানমন্ত্রী না হওয়ার পিছনে অঙ্কের হিসেব তুলে ধরেন দিলীপ ঘোষ। সাংবাদিকদের একাবের অঙ্কের শিক্ষকের মতো বোঝান, ৪২ আসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ২৭২ টি আসন দরকার পরে। মমতা ব্যানার্জির দল শুধুমাত্র বাংলায়। তার বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস একটি আসনও জিততে পারবে না। সেইজন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধানমন্ত্রী হওয়া অসম্ভব বলে জানান দিলীপ ঘোষ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি রবিবার যতই ড্যামেজ কন্ট্রোল করুক না কেন, দলের ভিতরে তার মন্তব্য নিয়ে ঝড় উছেছে। রাজ্য সভাপতির অনুগামিরা বলতে শুরু করেছেন একটা মন্তব্যই অনেক কিছুর ইঙ্গিত করে। দলে এমনিতেই দিলীপ ঘোষের বিরোধীরা বেশ সক্রিয়। শনিবারের মন্তব্যের পর দলে দিলীপ ঘোষের বিরোধীরা এই নিয়ে শোরগোল পাকাবে। অন্যদিকে দলে বিজেপির রাজ্য সভাপতির বিরোধীরা এই ঘটনা নিয়ে দিল্লি চলে যাবে। নালিশ জানাতে শুরু করবেন কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। সেসব অবশ্য রাত থেকেই বুঝতে পারছেন দিলীপ ঘোষ। তাই রবিবার মমতার প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে পিছু হটলেন। সেইসঙ্গে নিজের বক্তব্যের পিছনে সাফাই দিয়ে যুক্তিও দিয়ে গেলেন। দিলীপ ঘোষ বলেন, আমি মুখ্যমন্ত্রীর জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। এটা আমার সৌজন্যতা। আমি রাজনিতীতে সৌজন্যতা বজায় রাখতে জানি। তা করে একবারও ভুল করিনি বলে জানান দিলীপ ঘোষ।
বিজেপির রাজ্য নেতা শায়ন্তন বসু বলেন, দীলিপ ঘোষের মন্তব্য মিডিয়া অপব্যাখ্যা করেছে। দীলিপ ঘোষ বলেন নি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হবেন।

কেন দীলিপ ঘোষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমন মন্তব্য করতে গেলেন। বিজেপির অন্দর মহল সুত্রের খবর, এক পক্ষ বলছেন, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র মামলায় ভয় পেয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি। আরেক পক্ষ বলছেন, গত তিন বছরে রাজনীতিতে পরিণত হতে পারেননি দীলিপ ঘোষ। ভোট এগিয়ে আসছে মুকুলের মত পরিনত পোঁড় খাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভুত হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন দীলিপ ঘোষ। বিজেপির মুকুল পন্থীদের ব্যাখ্যা, মুকুল রায়কে হাত খুলে কাজ করতে দিলে দীলিপ ঘোষের গুরুত্ব সংগঠনে কমে যাবে। তা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন দীলিপ ঘোষ। তা থেকেই মাথা ঠিক নেই।

এদিকে, ফেসবুকে একদল দীলিপ ঘোষের মন্তব্য নিয়ে ট্রোলড করতে গিয়ে লিখেছেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী ঠিক বলেছেন যে, অমিত শাহদের উচিত বাংলার বিজেপি নেতাদের চিকিৎসা করাতে। রাজনীতির ময়দানে এরা একেকটা ফড়ে। খাদ্যমন্ত্রী জ্যতিপ্রিয় মল্লিকের মন্তব্যকে সত্যি প্রমাণ করলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দীলিপ ঘোষ।

বিজেপি সুত্রের আরও খবর, রবিবার রাজ্য নেতৃত্বকে নির্দেশ দেওয়া হয় দীলিপকে বাঁচাতে। এবং খোলা মঞ্চ থেকে বলতে যে, নরেন্দ্র মোদী যতদিন আছেন ততদিনই তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকবেন। বিজেপি ও সংঘের সেবকরা অনেকেই নিজেদের আলোচনায় বলছেন, দীলিপ ঘোষের কি সাহস! একেবারে মোদীর কুড়শি নিয়ে টানাটানি করে জাতিতত্ত্ব ফের উসকে দিলেন।

No comments