Top Ad 728x90

More Stories

Wednesday, 20 June 2018

শেল কোম্পানির তদন্তে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কে বলা কিছু তথ্য

by

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি পি চৌধুরী বললেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের কারণে কোনো কোম্পানি নিজে শ্বাসন করতে পারবে না এবং শেল সংস্থাগুলির অনুসন্ধানে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি ব্যক্তিকেও "কিছুটা" স্বতন্ত্র হতে হবে।

কর্পোরেট বিষয়গুলির জন্য রাজ্য সরকারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকার কোম্পানীর কাজ কর্মে স্বচ্ছতা কামনা করে এবং নিশ্চিত করে যে তারা অর্থ পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ কার্যকলাপের জন্য অপব্যবহার করে না।

অবৈধ তহবিলের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টাকে আরও জোরালো করে তোলার জন্য কর্পোরেট বিষয় মন্ত্রণালয় ২২৫ লাখেরও বেশি কোম্পানিকে নোটিশ জারি করেছে, এবং তাদের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী তাদের উপর জবরদস্তিমূলক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


 আনুষ্ঠানিক রেকর্ড থেকে ২.২৬ লক্ষ কোম্পানির অচল হওয়ার কারনে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন যাবৎ হিসাব নিকাশ না করার কারনে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ।

এই ব্যাকড্রপের বিরুদ্ধে চৌধুরী বলেন, কোম্পানীর তদন্তের মাধ্যমে তাদের আর্থিক ট্র্যাকগুলি বুঝতে হবে এবং তাদের সাথে অন্যান্য সংস্থাকে কীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছিল সেটাও দেখতে হবে।



তিনি বলেন - "আমি নিশ্চিত, ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি যে একবার আমরা তদন্ত করলেই ওই কোম্পানীর নিশ্চয়ই কিছু বেরিয়ে আসবে। এটি কোনও রাজনৈতিক দলও হতে পারে,আবার কোনো ব্যক্তিও হতে পারে ... কিন্তু এটা অবশ্যই  তারাই হবে যারা দীর্ঘমেয়াদী জাতি শাসন করেছেন,

তিনি বলেন কিছু নির্দিষ্ট ত্রৈমাসিকের মধ্যে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ তহবিলের ফাঁক ফোকরগুলিও কোম্পানিগুলির স্বায়ত্তশাসিত কার্যক্রমের উপর প্রভাব ফেলতে পারে,তিনি আরও বলেন নিয়মগুলি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্পোরেটদের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য নয়।



তিনি বলেন-"স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখা উচিত কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে নয় ... আমরা আইন পালন করব বাধ্যকারী সংস্থাগুলিকে পরীক্ষা করার জন্যই "।

শুল কোম্পানিকে অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়ার জন্য গত ইউপিএ সরকারকে দোষারোপ করে মন্ত্রী বলেন, এই বিদ্রোহ অনেক বছর ধরে চলছে এবং সরকার এখনই তাদের বের করে আনছে।

চৌধুরী বলেন-"তাদের (শেল কোম্পানীর) চলতে দেওয়া কোনও কারণ ছিল না কারণ পুরাতন আইন এবং নতুন আইন অনুযায়ী, বিধানগুলি অ-সম্মতির বিষয় ছিল। এটি ব্যবহার করা হয়নি এবং এটা দেখায় যে ইউপিএ সরকার এবং কংগ্রেস অনুমতি দিয়েছে এই ধরনের সংস্থাগুলি উন্নতি লাভ করে। এটি দেখায় যে অরক্ষিত ব্যক্তিরাও নিজের স্বার্থে কাজ করেছে,

কোম্পানি আইন, ১৯৫৯ কোম্পানী আইন, ২০১৩  সালে স্থাপিত হয়েছে। নতুন আইনের অধিকাংশ বিধান ১ এপ্রিল, ২০১৪ থেকে কার্যকর হয়েছে।

নিষ্ক্রীয় কোম্পানিগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করার বর্তমান রাউন্ড সম্পর্কে, মন্ত্রী বলেন, তাদের নোটিস পাঠানোর পর আগামী মাসের মধ্যে তাদের নিবন্ধন বাতিল হবে কি না তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

"প্রায় ২,২৫,০০০টি কোম্পানিকে তাদের আর্থিক বিবরণী পেশ না করার জন্য তাদের সনাক্ত করা হয়েছে, যেমন গত দু'বছর আর্থিক বিবৃতির আর্থিক বিবৃতি না দেওয়া এবং তারা কিছু সময়ের জন্য কোনও ব্যবসা না করে অখণ্ড অবস্থা চায় না।

তিনি বলেন "তাদের সত্যিকারের স্থিতি নিশ্চিত করার জন্য এই সংস্থাগুলিকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে",

বর্তমানে দেশে ১১ লাখেরও বেশি সক্রিয় কোম্পানি রয়েছে।

স্বতন্ত্রভাবে, কর্তৃপক্ষ শেল কোম্পানির জন্য একটি পরিচয় রাখার কাজ করছে

মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২২৬ লাখ কোম্পানি নিবন্ধিত হয়েছে, তাদের নগদ নগদ জমা দেয় ১.৬৮ লাখ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে।

চৌধুরী বলেন "৭৩,০০০কোম্পানি ২৪,০০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকের ৫৮,০০০ কোম্পানির তথ্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে,"

প্রায় ৬৮ টি কোম্পানীর তদন্ত চলছে, যাদের মধ্যে ১৯ জনের সিরিয় ফ্রাড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও) এর তদন্ত করা হচ্ছে।

কালো টাকা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে, সরকার ২০১২ সালের নভেম্বরে ৫০০ টাকায় ৫০০ টাকায় বৈধ দরপত্র বাতিল করে দেয়।

৫ মাসে ৫ জনের মৃত্যু, বাঘ ধরতে নাজেহাল দফতর

by

মাত্র পাঁচ বর্গ কিলোমিটারের এলাকায় পাঁচ মাসের মধ্যে পাঁচটি মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে জানুয়ারী, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে এক জন মারা যায় এবং ২ জুনের ঘটনায় এক মৃত্যু ঘটে। ১৭ জুনের ঘটনাটি ঘটেছে। বন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (ব্রহ্মপুরি) কুলবন্ত সিংহ বলেন, দুই-বছরের ছেলে বাঘ, চিহ্নিত করা হয়েছে এবং আলোচনা করা হয়।

"আমরা পশুটির ছবি তুলে রেখেছি, যেখানে স্পষ্টতই সে স্পটে দেখা যায়, যেখানে মৃতদেহগুলি মিথ্যা ছিল। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ক্ষেত্রে, বাঘটি প্রায় ২০০ মিটার দূরত্বে অবস্থিত। কিন্তু চতুর্থ এবং পঞ্চম ক্ষেত্রে, এটি স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে, "সিং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন। তিনি বলেন, "জাতীয় বাঘ সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের প্রোটোকল অনুযায়ী এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং এটি ক্ষয়ক্ষতির সমালোচনা করার জন্য আমরা শীঘ্রই প্রিন্সিপাল চীফ কনসার্ভর অব বন (বন্যপ্রাণী) রিপোর্ট জমা দিতে যাব, যারা প্রাণীকে ধরতে পারে"। ।



"আমরা এলাকায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় মানুষকে বিশেষ বাঘ সুরক্ষা বাহিনীকে আহ্বান জানিয়ে জনগণকে নিরাপত্তা প্রদান করেছি, যারা এখন চাষের কাজে ব্যস্ত আছে", সিং বলেন।

খামারের পাঁচটি মৃত্যুর মধ্যে একটির ঘটনা ঘটেছে, অন্য চারটি খামারের নিকটবর্তী বনের মধ্যে ঘটেছে। অধিকাংশ শিকার করছে বনভূমিতে গিয়ে বনভূমি বা ময়ূর শিকার করে চলে যায়।

চন্দ্রপুর জেলা, যার বনভূমিতে ১০০ টির বেশি বন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তাদোব্বা এন্ডাহারি টাইগার রিজার্ভের ৪৪ টির মতো, গত এক দশক ধরে অতীতের মানুষ-পশু সংঘাতের একটি হটস্পট হয়েছে। এই বছর, জেলায় এখন পর্যন্ত ১১ টি মৃত্যু নিবন্ধিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ টি বাঘের সংঘর্ষে, বন্য শুকর আক্রমণের কারণে এবং আরেকটি অন্য আক্রমণের কারণে।

রবিবার দুটো ঘটনা ঘটেছে, যখন এক কৃষককে বন্য শুয়োরের একটি দলের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করে এবং পুরুষ বাঘটি একজন নারীকে হত্যা করে, উভয় সিন্দাইহাভি রেঞ্জে।

ব্রহ্মপুরি বন বিভাগ, যার মধ্যে সিন্দেওহী রেঞ্জ রয়েছে, এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে চলছে, এই বছর পর্যন্ত এই বিভাগে সাতটি বাঘের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ব্রহ্মপুরি বিভাগ ১,১০০ বর্গ কিলোমিটারে ছড়িয়ে পড়ে, যে কোনও অ-সুরক্ষিত এলাকায় (বাঘ সংরক্ষণ ও পরিচর্যা ব্যতীত) জন্য সর্বাধিক ৪৪ টি বাঘ রয়েছে।

চাঁদপুর বিভাগে দুটি অন্যান্য মারাত্মক বাঘ আক্রমণ ঘটেছে। চন্দ্রপুর জেলার ৫ জন নারী মহিলা রয়েছেন।

দেশের মহিলা সিরিয়াল কিলার নিয়ে সিরিজ

by

হিন্দি কিংবা মারাঠি ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে দেখেছেন অম্রুতা খানভিলকরকে। তবে এতদিনের তার সমস্ত অভিনীত চরিত্রের থেকে আলাদা এই সিরিজের লোভিনা। সম্প্রতি মুক্তি পেল হাঙ্গামার প্রথম অরিজিনাল সিরিজ, ড্যামেজড। শুধুমাত্র সাইকোলজিক্যাল ক্রাইম ড্রামা নয়, এই ধারা নিয়ে ভারতে খুব একটা কাজ হয়নি। এই প্রথমবার কোনও মহিলা চরিত্রকে দেখা যাবে সিরিয়াল কিলারের ভূমিকায়। তাছাড়াও কী কী কারণে দেখবেন এই সিরিজ?

অসাধারণ প্লট

ওয়েব টেরিটরিতে নিজের সক্ত জায়গা করে নেবে ‘ড্যামেজড’। দেখা যাবে খুনের রহস্যের উদঘাটনে কীভাবে নাকানিচোবানি খেতে হয় সমগ্র পুলিশ বিভাগকে। শুধু তাই নয়, যেখান থেকে গল্প শেষ হওয়ার কথা, ‘ড্যামেজড’ ঠিক সেখান থেকেই শুরু। লোভিনা একজন সাধারণ মানুষ, যাকে ভালোবাসা যায়। একরম মনে হওয়ার পরের মূহুর্তেই পরিকল্পিত মার্ডারের দৃশ্য ভাবতে বাধ্য করবে, ডাল মে কুছ কালা তো হ্যায়। তবে এই সিরিজের সবচেয়ে মজার বিষয় এখানে কোন চরিত্রই পারফেক্ট নয়, প্রত্যেকের মধ্যেই ভাল-খারাপ রয়েছে। এমনকি পুলিশও তার উর্দ্ধে নয়। তবে দর্শক কোন পক্ষ নিলেই মুশকিল।

উদাহরণযোগ্য অভিনয়

হিন্দি কিংবা মারাঠি ছবিতে বিভিন্ন চরিত্রে দেখেছেন অম্রুতা খানভিলকরকে। তবে এতদিনের তার সমস্ত অভিনীত চরিত্রের থেকে আলাদা এই সিরিজের লোভিনা। অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করেছেন হয়তো তিনি, কিন্তু সিরিজটা পুরোটা দেখার পর তাঁর থেকে ভাল কাউকে খুঁজে বের করতে বেগ পেতে হবে। চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেন অমিত শিয়ালও। খুনের রহস্যের কিনারা করতে পুলিশ কতদূর যেতে পারে তার আভাস দেবে এই চরিত্র।
পরিচালনা ও বাস্তবায়ন

আরম্ভ মোহন সিং এই সিরিজের পরিচালক। পুরো সিরিজটায় আমি চোখ ফেরাতে পারবেন না। এতটাই টানটান প্রত্যেকটা শট। ডিজিটাল মিডিয়ামে এরকম দৃঢ় অথচ নান্দনিক পরিভাষা খুব কম থাকে।

এগুলোই নয়, আরও অনেক কারণে দেখা যায় ড্যামেজড সিরিজটি। শুধু ট্রেলারের ঝলকই আপনাকে এই সিরিজ দেখার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম। এই সিরিজ দেখা যাচ্ছে হাঙ্গামা প্লেতে।

জেল বন্দী ছেলের সেচ্ছা মৃত্যুর আর্জি জানাল মা

by

রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের দোষীদের রেহাই দেওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছে তামিল নাড়ু। কিন্তু দক্ষিণের এই রাজ্যের আর্জি কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

প্রায় ২৭ বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছে ছেলে। বন্দিদশা কাটাতে চেষ্টার কোন কসুর বাকি রাখেননি মা। কিন্তু কোনভাবেই জেলের ঘানি টানা থেকে ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেননি। এবার তাই ছেলের কষ্টে ব্যাকুল মা ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন।

ছেলের নাম এ জি পেরারিভালান। মাত্র ১৯ বছর বয়সে জেলের চৌহদ্দিতে প্রবেশ। যে সে অপরাধ নয়, খোদ দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর হত্যা মামলায় আজীবন কারাবাসের সাজা ভোগ করছেন পেরারিভালান। পেরারিভালানের মতো আরও ৬ জন একই সাজা ভোগ করছেন। রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের দোষীদের রেহাই দেওয়ার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছে তামিল নাড়ু। কিন্তু দক্ষিণের এই রাজ্যের আর্জি কার্যত নাকচ করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। এ খবর নিয়ে চর্চা শুরু হতেই ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা তাঁর ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য আওয়াজ তুললেন।

১৯৯১ সাল থেকে ছেলের বন্দিদশা ঘোচানোর জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন পেরারিভালানের মা। এ প্রসঙ্গে ৭১ বছর বয়সী বৃদ্ধা বললেন, “আমাদের মামলা সুপ্রিম কোর্টে ছিল, রাষ্ট্রপতির কাছে নয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সে আমার ছেলে গ্রেফতার হয়েছিল। ২৭ বছর ধরে জেলে বন্দি রয়েছে ও। মাঝে শুধু একবার, গত বছর প্যারোল পেয়েছিল।” ছেলের জন্য ব্যাকুল মা আরও বললেন, “আমার ছেলের মৃত্যু জেলে হোক, এটাই যদি আমাদের এই ব্যবস্থা চায়, তবে আমার ছেলে এমন যন্ত্রণা নিয়ে বাঁচতে চায় না।” ছেলের স্বেচ্ছামৃত্যু নিয়ে রাজ্য এবং কেন্দ্রকে চিঠি লিখবেন বলে জানিয়েছেন পেরারিভালানের মা।



পেরারিভালানের আইনজীবী এ প্রভু রামসুব্রহ্ম্যণম বলেন, সাত দোষীর শাস্তি মকুবের আর্জি যদি রাষ্ট্রপতি খারিজ করে থাকেন, তা তিনি ভারতীয় সংবিধানের ৭২নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী করে থাকতে পারেন। পেরারিভালানের আইনজীবী আরও বলেন যে, রাষ্ট্রপতির কাছে আমরা কখনই ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন করিনি। সাত দোষীকে রেহাই দেওয়া হবে কিনা, এ বিষয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ছিল। দোষীদের রেহাই দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ অস্বাভাবিক ঘটনা। এ প্রসঙ্গে পেরারিভালানের আইনজীবী আরও বলেন যে, রাষ্ট্রপতির কাছে যদি এ সংক্রান্ত কোনও রিপোর্ট যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে, রাজ্যের অধিকার কেড়ে নিয়েছে কেন্দ্র। ভারতীয় সংবিধানের ১৬১নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাজ্যপালের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারে রাজ্য, একথার উল্লেখ করেন ওই আইনজীবী।

সল্লু ঝড়ে ৭ দিনে ১০০ কোটি

by

বলিউডের বক্স অফিসে যে গতিতে ‘রেস’ তুলেছেন সল্লুভাই, তাতে সব রেকর্ডই বোধহয় চুরমার হতে চলেছে। নাম তাঁর সলমন খান, তিনি একাই একশো। গল্পের গরু গাছে উঠুক কি দামি দামি গাড়ির ছাদে চড়ুক, কিস্যু আসে যায় না। তাঁর সুঠাম চেহারা, বাচনভঙ্গি, কেতাদুরস্ত সংলাপ, আর স্টাইল…হাততালি, সিটি পাওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। আর সেকারণেই তো কখনও সখনও ছবিকেও ছাপিয়ে যান সলমন খান। হালফিলে যার জ্বলন্ত উদাহরণ ‘রেস ৩’। ইতিমধ্যেই ছবি দেখে বহু সলমন অনুরাগী থেকে ফিল্ম সমালোচক, সকলেই মুখ বেঁকিয়েছেন। সল্লুভাইয়ের এ ছবির আগে দিব্যি বসানো হচ্ছে ‘বকওয়াস’ শব্দটি। কিন্তু তাতে সল্লুভাইয়ের কী আর এলো গেল!

ছবি যাই হোক, সলমনের ঈদ উপহার নিয়ে খুশি হল মালিকরা। প্রথম দিন ২৯.১৭ কোটি টাকার ব্যবসা করে ইতিমধ্যেই নজির গড়ে ফেলেছে ‘রেস ৩’। এবার দ্বিতীয় দিনে টাকার অঙ্কটা বাড়ল বৈ কমল না। ঈদের দিন ৩৮.১৪ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে ছবিটি। দু’দিন মিলিয়ে আয় ৬৭.৩১ কোটি টাকা।

‘রেস ৩’-র হাত ধরে প্রথম সপ্তাহেই যে সলমন খান, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজরা একশো কোটির ঘরে নাম লেখাতে চলেছেন, তা আন্দাজ করাই যায়। টুইটারে খানিকটা সেরকমই ইঙ্গিতই দিয়েছেন ট্রেড অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ। অন্যদিকে ‘রেস ৩’-র চক্করে পড়ে খানিকটা বেকায়দায় ‘বীরে দি ওয়েডিং’ এবং ‘পরমাণু’-র মতো ছবি।



‘রেস’ ফ্র্যাঞ্চাইজের মতো অ্যাকশন থ্রিলার বরাবরই চেটেপুটে উপভোগ করেছে বলিউড। তবে এবার রেসের তিন নম্বর কিস্তি ঘিরে বেশি উন্মাদনা ছিল দর্শকদের মধ্যে, কারণটা একটাই – সলমন খান। এই প্রথমবার ‘রেস’-এর মতো সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজে সল্লুভাইকে দেখার উত্তেজনা আকাশচুম্বি ছিল। ‘কিক’-এর পর এ ছবিতে সলমনের সঙ্গে ফের দেখা গিয়েছে জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে। অন্য চরিত্রে রয়েছেন অনিল কাপুর, ববি দেওল, ডেজি শাহের মতো তারকারা। শেষ পর্যন্ত বলিউডের ভাইজানের এ ছবি আর কী নতুন রেকর্ড করে, সেদিকেই তাকিয়ে বক্স অফিস।

অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হলেন অভিনেত্রী

by

ভালবেসে ঘর বেঁধেছিলেন এই জুটি। ভেবেছিলেন ‘চিরদিনের’ সঙ্গী পেলেন। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে পড়ে সে স্বপ্ন একেবারে চুরমার হয়ে গেছে। তাও ভেবেছিলেন শান্তিপূর্ণভাবেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন। কিন্তু তা আর হল কই। রাহুলের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে খোরপোশের মামলা করলেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। নায়িকার অভিযোগ, ছেলে সহজের দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছেন অভিনেতা স্বামী রাহুল।

রাজ চক্রবর্তীর ছবি ‘চিরদিনই… তুমি যে আমার’ -এর আগে থেকেই দু’জনের প্রেমকাহিনি শুরু। পর্দার ভালবাসা পরে বাস্তব জীবনেও প্রভাব ফেলে। রাহুলের সঙ্গে ঘর বাঁধেন প্রিয়াঙ্কা। ছেলে সহজের জন্ম হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার ঘরের দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ঝামেলা মেটাতে মিউচুয়াল ডিভোর্সের রাস্তাতেই হাঁটার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু রাহুলের অসহযোগিতায় তা সম্ভব হল না বলেই জানালেন প্রিয়াঙ্কা। নায়িকার দাবি, কিছুদিন আগে সহজের স্কুলে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাহুল সে দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন। সহজের কোনও দায়িত্বই তিনি নিতে চান না। এমনকী নানা কথা বলে সহজের মনকেও বিষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এই কারণেই এবার মামলার পথে হাঁটতে বাধ্য হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। অভিনেত্রী জানান, ইতিমধ্যেই আদালতে খোরপোশের মামলা দায়ের করেছেন তিনি। সে নোটিস রাহুলের কাছেও পৌঁছে গেছে। রাহুলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছেন অভিনেত্রী। এর মধ্যে প্রতারণা ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। নিজের জন্য কিছুই চান না বলে জানিয়েছেন নায়িকা। যা তিনি করছেন, পুরোটাই সহজের জন্য করছেন। 

বর্তমানে ‘ব্যোমকেশ গোত্র’-র শুটিংয়ে ব্যস্ত রাহুল। ওই একই ছবিতে রয়েছেন প্রিয়াঙ্কাও। তিনিও সে ছবির শুটিং শুরু করতে চলেছেন। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে ফোন করা হলে রাহুল জানান, বিষয়টি বিচারাধীন তাই এ বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না। এদিকে প্রিয়াঙ্কার ফোন রিং হয়ে গেলেও তিনি ধরেননি। তবে জুন মাসের গোড়াতেই এক সাক্ষাৎকারে রাহুল মামলার কথা জানিয়েছিলেন। তখন রাহুল বলেন, ‘ক্যামেরায় দেখিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কোনও মানে হয় না।’ কিন্তু তা যে এভাবে হবে এ কথা বোধহয় তখন জানতেন না অভিনেতা। জুলাই মাসে মামলার শুনানি বলেই জানা গেছে।

পেরারিভালানের জেলবাসের ২৭ বছর পূর্ণ হল

by

১১ জুন, ১৯৯১ সালে রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় পেরারিভালানকে। পেরারিভালানের ডাকনাম আরিভু। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৯। সামান্য জিজ্ঞাসাবাদ করে কালই ছেড়ে দেওয়া হবে জেনে পেরারিভালানের বাবা-মা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন তাঁদের আরিভু-কে। সাতাশ বছর পরেও সেই ‘কাল’-এর অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

ছাড়া হয়নি তো বটেই, পরের ৫৯ দিন ধরে আরিভুর কোনও খোঁজই মেলেনি। তাঁর বাবা-মা হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন ফাইল করার ব্যাপারে দোনোমোনা করছিলেন, কারণ তাহলে আরিভু যে হাজতে রয়েছেন সে কথা সবাই জেনে যাবে। তাঁরা ভাবছিলেন আরিভু ছাড়া পেয়ে যাবেন, কারণ তিনি কোনও অপরাধ করেননি। তাঁদের ভারতের বিচারব্যবস্থার ওপরেও ভরসা ছিল। আশা ছিল, নিরপরাধী কখনও সাজা পেতে পারে না। গত ২৭ বছর ধরে আইনি লড়াই লড়তে লড়তেও সে আশাটুকু তাঁরা জিইয়ে রেখেছেন। আরিভু যে নিরপরাধ সে কথা প্রমাণ করতে কারও দরজায় কড়া নাড়তে বাকি রাখেননি তাঁরা। সে কড়া নাড়া আজও চলছে।

তাঁদের আশা বারবার ভেঙেচুরে গেছে, বারবার তাঁরা লড়াইয়ের শক্তি অর্জন করেছেন, বারবার গোড়া থেকে শুরু করেছেন। সত্যই তাঁদের শক্তি হয়ে থেকেছে। সত্য এই, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডে আরিভু যুক্ত ছিলেন না।

আরিভুর বিরুদ্ধে অভিযোগ, রাজীব গান্ধীকে হত্যা করার জন্য যে বোমা ব্যবহৃত হয়েছিল তা বিস্ফোরণ করার জন্য একটি ৯ ভোল্টের ব্যাটারি সরবরাহ করেছিলেন তিনি। এই ধরনের ব্যাটারি সর্বত্র পাওয়া যায়, যে কোনও দোকানে। আরিভুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রমাণ ছিল এক দোকানির সাক্ষ্য, যিনি জানিয়েছিলেন তাঁর দোকান থেকে ব্যাটারি কিনেছিলেন আরিভু। একটি খুচরো দোকানের মালিকের পক্ষে ঘটনার বেশ কয়েক মাস পরেও কে তার দোকান থেকে কী কিনেছিলেন সেটা মনে রাখা খুবই আশ্চর্যের। আরও আশ্চর্যের ব্যাপার, আরিভুর পকেট থেকে ঘটনার বেশ কয়েকমাস পরে ওই ব্যাটারি কেনার রসিদও পায় সিবিআই। আর বাকি প্রমাণ বলতে আরিভুর নথিভুক্ত স্বীকারোক্তি।

মামলা দায়ের করা হয়েছিল টাডা আইনে। এই আইনানুসারে একজন পুলিশ অফিসার স্বীকারোক্তিমূলক বয়ান নথিবদ্ধ করেন। কিন্তু আমরা জানি পুলিশ হেফাজতে বয়ান নেওয়ার জন্য পুলিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। পেরারিভালানের ওপরেও থার্ড ডিগ্রি শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচার চালিয়ে তাঁকে দিয়ে সাদা কাগজে সই করিয়ে নেওয়া হয়। রেকর্ড অনুযায়ী, স্বীকারোক্তিমূলক বয়ানে লেখা আছে, পেরারিভালান ব্যাটারি কিনে রাজীব হত্যার মূল চক্রী শিভরাসানকে সেই ব্যাটারি দেয়। এই স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে পেরারিভালানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার ২৬ বছর পর, ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর, প্রাক্তন সিবিআই অফিসার ভি তিয়াগারাজন (তৎকালীন এসপি, অতিরিক্তি ডিজিপি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত) সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা দাখিল করেন। সে হলফনামায় তিনি জানান, পেরারিভালানের স্বীকারোক্তি যিনি নথিভুক্ত করছিলেন, তিনি একটি অংশ বাদ দিয়েছিলেন। কী ছিল সে অংশে? “যে ব্যাটারি ও কিনেছিল, তা কী কাজে ব্যবহার করা হবে সে নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না।” যদি এ অংশটা নথিভুক্ত হত, তাহলে কী হত? তিয়াগারাজন জানাচ্ছেন, তাহলে কেবলমাত্র ৯ ভোল্টের ব্যাটারি সরবরাহের দায়ে পেরারিভালান রাজীব হত্যার ষড়যন্ত্রী হিসেবে গণ্য হত না।

তিয়াগারাজন আরও জানিয়েছেন, “সিবিআই পেরারিভালানের ভূমিকা নিয়ে নিশ্চিত ছিল না, কিন্তু তদন্ত যত অগ্রসর হয়েছে, ততই এ ষড়যন্ত্রে তার অজ্ঞতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে ১৯৯১-এর ৭ মে রাজীব হত্যার মূল চক্রী শিভারাসানের এলটিটিই-র উচ্চপর্যায়ের নেতা পোট্টু আম্মান-কে পাঠানো ওয়্যারলেস মেসেজের উল্লেখ করেছেন তিয়াগারাজন। ওই মেসেজে শিভারাসান জানিয়েছিল, “আমাদের উদ্দেশ্য তিনজন ছাড়া কেউ জানে না।” এই তিনজন হল শিভারাসান নিজে, শুভা, এবং আত্মঘাতী বোমারু ধানু। এই ওয়্যারলেস মেসেজ থেকেই স্পষ্ট যে পেরারিভালানকে তারা নিজেদের লোক বলে গণ্য করেনি।

কেবলমাত্র স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করেই পেরারিভালানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, এবং ২৭ বছর ধরে জেলেই রয়েছেন তিনি। আজ ২৬ বছর পর যে স্বীকারোক্তিমূলক বয়ানের বিশ্বাসযোগ্যতা ভেঙে পড়েছে।

পেরারিভালানের বয়স এখন ৪৬। ২৭ বছর তিনি জেলে কাটিয়েছেন। তার মধ্যে ২৩ বছর কেটেছে সলিটারি কনফাইনমেন্টে। তাঁর মৃত্যুর দিন ধার্য হয়েছে একধিকবার। জেলে বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। কিন্তু এর কোনও কিছুই তাঁর মুখের হাসিটুকু কেড়ে নিতে পারেনি।

২৭ বছর একজন মানুষের জীবনে বড় কম সময় নয়। পেরারিভালানের হাজতবাসের এক বছর পর তাঁর বোনের বিয়ে হয়। সেই বোনের সন্তানেরা আজ সফটওয়্যার প্রফেশনাল। আরিভুর হারানো সময়ের সাক্ষী তারা। এত বছরের কারাবাস একজন মানুষের সমস্ত বোধ কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু আরিভুর ক্ষেত্রে তা হয়নি। আরিভু দাঁড়িয়ে আছেন শক্ত হয়ে।

জোলারপেটের এক স্কুল শিক্ষকের সন্তান, সাধারণ পরিবারে বড় হয়ে ওঠা আরিভুর গ্রেফতারি তাঁর পরিবারের ক্ষেত্রেও ভয়ংকর ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আরিভুর নিজের ক্ষেত্রে তো বটেই। তবু না আরিভু ভেঙে পড়েছেন, না তাঁর পরিবার। আইনজীবীদের সঙ্গে বসে নিজের মামলার নথিপত্রের খসড়া নিজেই ঠিক করেন তিনি। যারা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে আসেন, আরিভু তাঁদের কাছ থেকে জেনে নেন বাইরের পৃথিবীতে কী কী ঘটছে, সে বিজ্ঞান হোক, কী রাজনীতি, খেলাধুলো কিংবা চিকিৎসা।

ক্লাস টুয়েলভের পরীক্ষায় ৯১.৩৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছিলেন আরিভু। আজ পর্যন্ত জেল থেকে যতজন পরীক্ষা দিয়েছে তাদের মধ্যে তাঁর স্থানই সর্বপ্রথম। তামিলনাড়ু ওপেন ইউনিভার্সিটির পরীক্ষায় গোল্ড মেডেল পাওয়ার পর কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মাস্টার ডিগ্রিও করা হয়ে গেছে তাঁর।


জেল থেকে যারা পরীক্ষা দেয়, তাদের পড়ান আরিভু। সহ বন্দিদের সঙ্গে একটা মিউজিক ব্যান্ড চালান। তাঁর সারল্যভরা হাসি আর শিষ্টাচার সকলকেই মুগ্ধ করে, সে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মচারী থেকে অন ডিউটি কনস্টেবল, যাবজ্জীবন দণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত আসামি থেকে খুচরো অপরাধী, যেই হোক না কেন। তাঁর অনুপ্রেরণাতেই এক জেল খাটা আসামি কাঞ্চিপুরমে তাঁর নামে গঠন করেছেন ‘পেরারিভালান এডুকেশনাল ট্রাস্ট’, যেখানে পড়াশুনো করে সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের ছেলেমেয়েরা। তামিলনাড়ুর বহু ছেলেমেয়ের নামকরণ করা হয়েছে পেরারিভালানের নামে।

আজ পেরারিভালানের মুক্তির দাবিতে গণ আন্দোলন হচ্ছে। রাজীব গান্ধী হত্যা মামলার এক অপরাধী থেকে রাজ্যের ঘরে ঘরে সমাদৃত এক নাম হয়ে ওঠা রাতারাতি ঘটেনি। এসবের পিছনে যিনি রয়েছেন, তাঁকে সবাই ভালোবেসে আরিভাম্মা বলে ডাকে। আরিভাম্মা, মানে আরিভুর মা।

আরিভাম্মার আসল নাম অর্পুতম। ২৭ বছর ধরে ছেলের মুক্তির জন্য লড়াই চালাচ্ছেন, তাঁর বয়স এখন ৭১। ছেলের গ্রেফতারির আগে পর্যন্ত তিনি শুধু পরিবারের একজন ছিলেন। কিন্তু আরিভুর গ্রেফতারের পর উঠে দাঁড়ালেন তিনি। ২৭ বছরে এমন একটি সপ্তাহ যায়নি, যে সপ্তাহে তিনি ছেলেকে দেখতে যাননি। ঝড়বৃষ্টির দিনেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। আরিভু আর সংবাদমাধ্যম, দু পক্ষের কাছেই তিনি জানালা। তাঁর মাধ্যমেই সংবাদমাধ্যম জানতে পারে আরিভুর কথা। তাঁর মাধ্যমেই আরিভু জানতে পারেন সংবাদমাধ্যমের কথা।

পেরারিভালানের মুখ যারা মনে করতে পারেন না, তাঁরাও অর্পুতমকে চেনে। জেল, আদালত আর আইনজীবীর দফতরে চরকি পাক খান তিনি। তামিল ছাড়া অন্য কোনও ভাষা না জানা সত্ত্বেও তিনি সারা দেশের মানবাধিকারকর্মীদের কাছে গিয়ে জানান তাঁর ছেলে নিরপরাধ।

অর্পুতমের দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর ছেলে মুক্তি পাবেই। কারণ সে নিরপরাধ। তাঁর এই বিশ্বাস তাদের সকলের কাছেই পরীক্ষার সমতুল্য, যাঁরা গণতন্ত্র ও ন্যায়সমাজে বিশ্বাস রাখেন। তাঁর বিশ্বাস ভারতীয় বিচারব্যবস্থার কাছেও পরীক্ষার সমতুল্য। ন্যায়বিচারে ইতিমধ্যেই অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছে।

Top Ad 728x90

Top Ad 728x90